Followers

একটা বেড়াল


বাঘের মতো ওঁৎ পেতে একটা ছাই-ছাই বেড়াল
অনেকক্ষণ হলো বসে আছে পাঁচিলের আড়ে।
রাত এগারোটা পেরিয়ে যায়, 
দরজা খুলে গৃহস্থ এক দলা এঁটো ফেলে যায়
ড্রেনের পাশে। পাঁচিলের আড়ে বসে থাকা
তপস্বীকে সে দেখেও না।

বেড়ালটার খিদে পেয়েছে,
তাও আরও অপেক্ষা করে ও। ঘড়ির কাঁটা ঘোরে।
রাস্তায় পায়ের, রিকশার আনাগোনা কমে আসে।

অবশেষে, পিছল শ্যাওলার মতো পাঁচিলের গা থেকে
যেন সে জন্ম নিয়ে এগিয়ে আসে।
সামনের দুটো কাঁধের পেশী রাস্তার আলোয়
বাঘের মতো নড়ে চড়ে।

এঁটোর সামনে এসে বেড়ালটা দাঁড়ায় আবার।
গন্ধ শোঁকে। মুখ নিচু করে
ছোট্ট জিভটা ছোঁয়ায় হলুদ ভাতে, মুড়োর কাঁটায়।

খিদেয়, স্বাদে, লোভে সমস্ত শরীর কেঁপে ওঠে।
খুশির যে এক অদ্ভুত গোঙানি আছে, 
সেভাবে ডাকে বেড়ালটা বারবার। 
এই বিরাট রাস্তায়, রাতের ফাঁকা রাস্তায়
ঝরঝর পাতাপড়া পথে, জনমানুষ
এমনকি দ্বিতীয় একটা বেড়ালহীন পথে 
কিসের যে ভয় ওর!
চিবোতে চিবোতে তাকাতে পারে না খাবারের দিকে,
খালি পিছন আর দুইপাশে দেখে যায়, কে জানে কী!

নিজের ইঁদুরের মতো ছোট ছায়াটা শেষে 
একবার নড়ে ওঠায়
প্রচন্ড ভয়ে, এক লাফে বেড়ালটা আবার সেঁধিয়ে যায় 
পাঁচিলের গায়ে।
ঝিম ধরা ঘরে সব আলো নিভে আসে,
টিভির আওয়াজ বাড়িয়েই কেউ ঘুমিয়ে পড়েছে,
কেউ খট করে বাথরুমের আলো জ্বালিয়ে নেয়,
বেড়ালটা সেঁধিয়ে যেতে থাকে, আরও। আরও।
ওর মনে হয়, এই সমস্ত আলো, শব্দ, মানুষ
ওর খাবারশুদ্ধু ওকে খেয়ে নেবে! 
পালানোর পথ নেই। 

একার সাম্রাজ্যে একটা বেড়াল
প্রচন্ড ভয়ে মানুষের মতো সেঁধিয়ে বসে থাকে।

(Photo Courtesy: Pinterest)

Comments

Post a Comment