তত বড় নয় এ হৃদয়পুর
"নাভি থেকে বারো আঙুল উপরে
আমাদের হৃদয়" – বলতো দিদিমা।
"সেইখানে ঠাকুরের বাস।"
আর অমনি ফটো-মূর্তি সমেত আমাদের ঠাকুরঘরটা
কেমন সেঁধিয়ে যেত আমার ভিতর।
"এত বড়, হৃদয়?"
"হ্যাঁ গো", আমার বুকের মধ্যিখানের
ডেবে থাকা আধো শক্ত হাড়ে হাত বোলাতো দিদিমা।
"আরও অনেক, অনেক বড়।"
আরও অনেক বড় সে সত্যিই, বড় হতে হতে জেনেছি।
পড়াশুনা মুখস্থ করলে চলে না,
হৃদয়ঙ্গম করা প্রয়োজন।
গান গাইলে, "হৃদয় দিয়ে গাইছো তো?"
ভালোবাসাবাসির শ্রমসাধ্য কারখানা তারই হেফাজতে।
কিছু চাইলে,
সে হৃদয় থেকে চাওয়াই ভালো। নয়তো মেলে না।
কলেজশেষে মাস্টারমশাই প্রশ্ন করেন –
"গ্র্যাজুয়েট তো হলে; হৃদয়বান হয়েছো কি?"
বড় হতে হতে, সেই হৃদয়ে
ছোটবেলার ঠাকুরঘরের স্থান সংকুলান হয় না আর।
একান্ত ব্যক্তিগত ইষ্টকে ধ্যান করি
বুকের হাড়-মাস সরিয়ে।
নাভির বারো আঙুল উপরে তাঁর অধিষ্ঠান –
দাঁতে দাঁত চেপে, একাগ্র হই প্রাণপ্রতিষ্ঠায়
আমি ঝুঁকে পড়লে, ঈশ্বরও নুয়ে পড়েন
তারপর এক ঝটকায়
তিনি আর আমি সোজা হয়ে বসি।
এমন অনন্ত হৃদয়সন্ধ্যায়
এখন নিজেকে ধারণা করি একমনে।
অলিন্দে ঈশ্বরের হা হা হাসি ফিরে ফিরে বাজে।
Comments
Post a Comment