সন্ন্যাসী
মফঃস্বলে মেলা ভেঙে যাওয়ার পরদিন
এলোথেলো, জট পড়া চুলে
ছেলেটি বসে থাকতো দাওয়ায়।
হাতে প্রসাদী তিলের নাড়ু, ফ্যালফ্যালে দৃষ্টি –
বাড়ি থেকে সোজা যে পথটি স্টেশনের দিকে গেছে,
যে স্টেশন থেকে রেল ধরে
বাদ্যি, রঙ, বেলুন, মানুষেরা
চলে গেছে আরও দূর, দূরের রাস্তায়,
সেইদিকে তাকাতো সে।
বসন্তবৌরির ডাক শুনতে শুনতে কখন
তার চোখের জল, হাতের নাড়ু
গড়িয়ে পড়তো ধুলোয়।
বাড়ির বড় মেয়েটি বলতো,
"তোর যে দেখি জগৎ ভুল হয়ে যায়! জ্বালা!"
আসলে তার ভাইকে সত্যিই কোনোদিন
জিজ্ঞেস করা হয়নি – ভুল হতো কিসে।
বড় হয়ে
চাকরি, প্রেম, পরিবার ছেড়ে
ছেলেটি একবার সন্ন্যাসী হয়েছিল।
সন্ন্যাসীই যে তার হতে হতো, এমন নয়,
তবু, যৌবনের বৈভব দেখে তার মনে হয়েছিল –
অঘ্রাণ-সূর্যের মতো সে ত্যাগী হবে।
রেলপথ ধরে খুঁজে খুঁজে যাবে
অসুখী মানুষের কাছে;
প্রাণের মণিমুক্তো বিলোবে শূন্য হয়ে –
তাই, সে সন্ন্যাসী হয়েছিল।
প্রথম প্রথম, ক-মাস পেরোলে
সে এক-একদিন বিকেলে হঠাৎ এসে দাঁড়াতো দরজায়।
পুড়ে যাওয়া চেহারা, মুখে অনিশ্চিত হাসি।
বিরাট এক থালা মুড়ি নিয়ে সে বসতো মাটিতে।
তারপর মাঝেসাঝে চিঠি আসতো তার।
শেষবার লেখা ছিল
"তোর রাখাল মরেছে, দিদি,
Comments
Post a Comment